৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
লেখক: শফিকুর রহমান রয়েল | শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২, ২২ মাঘ ১৪১৮
২০১০ সালের ডিসেম্বরের কথা। শুধু সে মাসেই স্পেনে যুক্ত হয়েছিল ৩৬ হাজার নতুন বেকার। আর দেশে মোট বেকারের সংখ্যাটা ছিল ৪০ লাখের মতো। ধারণা করা হয়েছিল, ২০১১ সালের শেষ নাগাদ বেকারত্বের হার ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌছুঁতে পারে। সে জায়গায় বর্তমান অবস্থাটা একটু চিন্তা করুন। এরই মধ্যে কর্মহীন লোকের সংখ্যাটা ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। সেদেশের সরকারী পরিসংখ্যান বলছে, গেলো ডিসেম্বর শেষে স্পেনের মোট বেকার দাঁড়িয়েছে ৫৩ লাখ। এখানেই শেষ নয়, বেকারত্বের হার এখন ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। গত ১৭ বছরের মধ্যে এ হারই সর্বোচ্চ। বর্তমানে দেশটিতে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই (৪৮.৬ শতাংশ) বেকার। ৩৬ মাস আগে বেকারত্ব যখন বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করলো, তখন দেশটির সমাজতন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী জোসে লুইস রডরিগুয়েজ জাপাটেরো ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন, ২০০৯ সালের শেষ নাগাদ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু ২০১১ সাল শেষ হয়ে গেলেও তার কোন লক্ষণ নেই। উপরন্তু বেকারত্ব বাড়ছে তো বাড়ছেই। ব্যাংক অব স্পেন বলেছিলো, ২০১১ সালের দ্বিতীয়ার্ধের আগে বেকারত্বের হার কমার কোন সম্ভাবনা না থাকলেও এর পর থেকেই পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কথাও বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছুই নয়। লক্ষণ বলছে, স্প্যানিয়র্ডদের পরিণতি হতে পারে আরো করুণ।
স্পেনে বর্তমানে কাজ না থাকার সুবিধা গ্রহণ করে প্রায় ৩৫ লাখ লোক। ৪ লাখেরও বেশি দীর্ঘকালীন বেকার প্রতিমাসে গ্রহণ করে মাত্র ৪২৬ ইউরো। অভিবাসী ও তরুনদের অবস্থা সবচে’ খারাপ। পঁচিশ অনুর্ধ্বদের ৪০ শতাংশেরই কোন কাজ নেই। যা কিনা মহামন্দা আক্রান্ত ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশি। রোমান ক্যাথলিক চ্যারিটি ‘কারিতাস’-এর মহাসচিব সেবাস্তিয়ান মোরা জানিয়েছেন, স্পেনে তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া লোকের সংখ্যাটা গত তিন বছরে প্রায় তিনগুন বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০০৮ সালের শেষে বেকারের সংখ্যাটা প্রথমবারের মতো যখন তিন মিলিয়নে পৌঁছুলো, তখন ট্রেড ইউনিয়নের এক কর্মী বলেছিলেন, ৪ মিলিয়নে পৌঁছুতে স্পেনে সামাজিক বিপ্লব ঘটে যাবে। রক্ষণশীল অনেক পন্ডিতই মন্তব্য করতে দ্বিধান্বিত হননি যে, এতে করে স্পেনের রাস্তায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা বেধে যেতে পারে। সে জায়গায় বেকারদের সংখ্যা এখন ৫০ লাখ অতিক্রম করেছে, কিন্তু দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টির লক্ষণ নেই তেমন। এর পেছনে অবশ্য একটি কারণ রয়েছে। স্প্যানিয়ার্ডরা আইনের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল। পুলিশের চাকরিটাকে তারা বেশ সম্মানজনক মনে করে। পুলিশের প্রতিটি চাকরির আবেদনপত্র জমা পড়ে গড়ে ত্রিশটি।
ঐতিহাসিকভাবে স্পেনের লোকজন বেকারত্ব সম্পর্কে সহনশীল। দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন বেকারদের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। আবার সব বেকারেরই যে কাজ নেই, তা ঠিক নয়। স্পেনের তেজস্বী ও বর্ধিষ্ণু গুপ্ত কোলো অর্থনীতির কথা সবাই জানে। ট্যাক্স ইন্সপেক্টরস ইউনিয়ন গেসথা’র তথ্যানুযায়ী, জিডিপিতে গুপ্ত অর্থনীতির অবদান ২৩%। গত বছরও তা বৃদ্ধি পেয়েছে ০.৭%। অনেক বেকারই প্রাতিষ্ঠানিক কাজে ফিরে যেতে ইচ্ছুক নয়। বছরের পর বছর ধরে গ্রহণ করছে বেকার ভাতা। স্থায়ী কাজ গ্রহণেও অনেকের রয়েছে অনীহা। কাজেই বেকারত্বের হার সত্যি কতো, তা বলা খুব মুস্কিল। অন্তত এটুকু বলা যায় যে, সমস্যাটাকে যতোটা তীব্র ভাবা হচ্ছে, আসলে ততোটা নয়।
ইউরোপের মধ্যে স্পেনের শ্রমবাজার সবচে’ অস্থির। মহমন্দা শুরুর পর থেকে এখানকার মানুষ চাকরি হারিয়েছে খুব দ্রুত। কিন্তু তার আগের পরিস্থিতিটা ছিল ঠিক তার উল্টো; সৃষ্টি হচ্ছিলো অসংখ্য চাকরি, বিশেষত নির্মান ক্ষেত্রে। কিন্তু অগনিত বাড়ি অবিক্রীত থাকাতে নির্মান শিল্পের অবস্থা এখন করুন। সেজন্যেই স্পেনে বেকারত্বের হার বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডের চেয়েও দ্রুতগতিতে। স্পেনে ছাঁটাই করাটা তুলনামূলভাবে অনেক সহজ। স্পেনের একটি ব্যাংকের গবেষণা অনুযায়ী, দ্বি-স্তর বিশিষ্ট শ্রমবাজারের কারণেই চাকরি হারানোর ব্যাপারটা অহরহ ঘটছে। চাকরি প্রার্থীদের এক-তৃতীয়াংশই গ্রহণ করে অস্থায়ী চাকরি। বাকিরা আবদ্ধ হয় স্থায়ী চাকরিতে। অস্থায়ী শ্রমিকদের বিদায় করে দেয়া হয় জরুরী নোটিশের ভিত্তিতে। ঠিকমতো ক্ষতিপূরণও দেয়া হয় না। এসব দেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভনর মিগুয়েল এ্যাঞ্জেল ফার্নান্দেজ আর্দোনেজ দাবি জানিয়েছেন শ্রম আইন সংশোধনের। ইউরোপের অন্যান্য বড় দেশগুলোর মতোই উচ্চ শিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ৩০ শতাংশ স্প্যানিয়ার্ডই স্কুল ছাড়ে কোন যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই। যা কিনা ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। স্কুল শেষ না করা তরুণরা চাকরির বাজারে দারুন সমস্যার মুখে পড়ে। চাকরি খুজঁ পাওয়াটাই তাদের জন্য মুস্কিল হয়ে দাঁড়ায়।
— দি ইকোনোমিস্ট অনুসরণে
মেয়াদ উত্তীর্ণ পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।