৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
লেখক: ইত্তেফাক রিপোর্ট | শনি, ২৮ জানুয়ারী ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮
১২ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি
সুন্দরবন রক্ষায় বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় প্রস্তাবিত কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিক। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। গতকাল শুক্রবার আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাপা’র মহাসচিব ড. এম এ মতিন, পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের, ব্লাস্ট’র অবৈতনিক পরিচালক সারা হোসেন, নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশি কবীর, সুজন’র সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, এ্যাকশনএইড বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক ফারাহ কবির এবং টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান। তারা পরিবেশজনিত প্রভাব ও জনমত যাচাই করে সুবিধাজনক স্থান নির্বাচনেরও আহবান জানান। ১২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান স্বাক্ষরিত ঐ বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলায় ১৩০০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ উত্পাদনের জন্য ভারতের এনটিপিসির সাথে আগামী ২৯ জানুয়ারি একটি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। বিদ্যুত্ উত্পাদনের বিষয়ে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য রামপাল উপজেলাকে নির্বাচিত করায় আমরা উদ্বিগ্ন। কারণ এর ফলে বিশ্ব ঐতিহ্যের ধারক ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং এর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়বে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যে প্রাথমিক পরিবেশগত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ স্থাপনের ক্ষেত্রে অবস্থানগত ছাড়পত্র দিয়েছে তাতে দেখা যায়, প্রকল্প এলাকা সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার ৪ কিলোমিটারের মধ্যে এবং সুন্দরবনের সীমানা থেকে ১০ কিলোমিটার বাফার জোনের মধ্যে অবস্থিত। কিন্তু প্রাথমিক পরিবেশগত প্রতিবেদন কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ছাড়পত্রের কোনটিতেই সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার ওপর কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুত্ প্রকল্পের বিরূপ প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি আইন অনুযায়ী শিল্প এলাকা বা শিল্পসমৃদ্ধ এলাকা ছাড়া এরূপ প্রকল্পের ছাড়পত্র দেয়ার এখতিয়ার পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন এবং ছাইভষ্ম নিঃসরিত হয়, যা পারিপার্শ্বিক পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটায়। এসব স্থাপনা থেকে নির্গত গ্যাসে ভারি ধাতু, সালফার এবং নাইট্রোজেন অক্সাইড মিশ্রিত থাকে, যা বাতাসের সাথে বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দেনর পরিবেশ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ সমস্ত জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে। ইতিমধ্যে জাতিসংঘের রামসার কনভেনশনের সচিবালয় থেকে সুন্দরবন সংলগ্ন সরকারের তিনটি প্রকল্পের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, প্র্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সমগ্র দেশবাসী সুন্দরবনকে বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তমাশ্চর্য নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছে। সেখানে সরকারের এমন স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় আমরা সুন্দরবনের স্পর্শকাতরতা বিবেচনা না করে প্রণীত প্রাথমিক পরিবেশগত প্রতিবেদন এবং প্রদত্ত অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিলের দাবি জানাই।
তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।