৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
লেখক: ইত্তেফাক রিপোর্ট | শনি, ২৮ জানুয়ারী ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮
সিপিবি’র জনসভায় মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
00 জনগণের প্রত্যাশা ভেঙ্গে চুরমার
00 অভিযুক্তদের উপর শেয়ারবাজারের দায়িত্ব
00 তত্ত্বাবধায়ক বাতিল রাজনৈতিক প্রতারণা
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছেন, এ সরকার স্বৈরাচারী আচরণ করছে। তারা বিএনপির কর্মসূচির দিন পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে সংঘাতকে উস্কে দিচ্ছে। সরকার নানা কায়দায় পল্টন ও মুক্তাঙ্গনসহ সব ঐতিহাসিক স্থানে জনসভা করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এটি স্বৈরাচারী আচরণ। তিনি বলেন, স্বৈরাচার বা সামরিক সরকারের রেওয়াজ হলো জনসভা করতে না দেয়া। মহাজোট সরকার অঘোষিতভাবে জনসভা করা অসম্ভব করে তোলার কৌশল পথ গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সামনে মহাবিপদ। এই মহাবিপদকে ঠেকাতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি মৌলবাদী শক্তি এবং ওয়ান ইলেভেনের শক্তির কাছ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে। সাথে সাথে আপদ-বিপদ ও ওয়ান ইলেভেনের ফর্মুলার যে শক্তি এই তিন শক্তির বলয় থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মত্স্য ভবন সড়কে কমিউনিস্ট পার্টির জাতীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনজুরুল আহসান খান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশ আজ খাই খাই, লুটপাট, দুর্নীতি ও দখলের কবলে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের কাছে জনগণের যে প্রত্যাশা ছিল তা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। লুটপাট, দুর্নীতি, দুঃশাসন, জনজীবনের সংকট দূর করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বামপন্থিরা ক্ষমতায় গেলে দেশ বাঁচবে, দেশের মানুষ বাঁচবে। তিনি বলেন, ৪০ বছর ধরে দেশ ও জাতি যে সঙ্কটের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে তা থেকে মুক্তি পেতে আজ সমাজতন্ত্রের লক্ষ্য সামনে রেখে একটি বিপ্লবী গণতান্ত্রিক পরিবর্তন আনতে হবে।
মনজুরুল আহসান বলেন, অতীতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। দুই জন রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় নেতৃবৃন্দসহ অনেককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। একের পর এক ক্যু পাল্টা ক্যুর মধ্যে বহু সেনা সদস্য জীবন হারিয়েছেন। দেশের মানুষ এটা আর দেখতে চায় না। ভারতের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘বখশিশ নয়, আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা চাই।’
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, মহজোট সরকারের তিন বছর পার হয়েছে। কি পেয়েছে মানুষ! তপ্ত কড়াইয়ের অসহনীয় উত্তাপে তাদের জীবন আজ অসহনীয়। ফুটন্ত কড়াইয়ের উত্তাপ থেকে তারা আজ পরিত্রাণ চায়। এ সরকার বিদ্যুত্, পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, পানি এবং সারের দাম বাড়িয়েছে। শেয়ার মার্কেটের ৩০ লাখ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। ৬০ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যে লুটপাট হয়ে গেছে। যাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তাদেরকে আবার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনীর মামলায় উচ্চ আদালতের ধর্মভিত্তিক দল নিষিদ্ধের নির্দেশনা এ সরকার মানেনি। অথচ আদালতের রায়ের অজুহাত দেখিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে। সরকার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। আদালত যে আগামী দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চালু রাখতে বলেছে সে কথা তারা চেপে যাচ্ছে। এটা কেবল রাজনৈতিক প্রতারণা নয়, বিএনপি-জামায়াতের হাতে একটি ইস্যু তুলে দিয়েছে।
সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পার্টির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য সহিদুল্লাহ চৌধুরী, হায়দার আকবর খান রনো, শামসুজ্জামান সেলিম, সাজ্জাদ জহির চন্দন, লক্ষ্মী চক্রবর্তী ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জসীম উদ্দিন মণ্ডল। সমাবেশে ১১ দফা দাবিনামা পেশ করা হয়। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সমাবেশে বক্তারা সকল কৃষক, ক্ষেতমজুর, শ্রমিক, পেশাজীবী জনতাকে নিজ নিজ সমিতি ও ট্রেড ইউনিয়নে সংগঠিত হয়ে গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা ঘরে ঘরে বিকল্প শক্তির দুর্গ গড়ে তুলুন।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ১১ দফা দাবিতে এই জাতীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এর আগে ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবি লাল পতাকার মহাসমাবেশ করেছিল।
তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।