box1

হোমarrow_menu প্রথম পাতাarrow_menu খাদ্যঅধিদফতরের নিয়োগপরীক্ষারপ্রশ্নপত্র ফাঁস

খাদ্যঅধিদফতরের নিয়োগপরীক্ষারপ্রশ্নপত্র ফাঁস

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার  |  শনি, ২৮ জানুয়ারী ২০১২, ১৫ মাঘ ১৪১৮

Details

রাজধানী ও কুড়িগ্রামে ১০ জন আটক

খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া ঐ প্রশ্নপত্রেই গতকাল শুক্রবার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানী ও কুড়িগ্রাম থেকে ১০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অধিদফতর অপর একটি পরীক্ষায়ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে একটি চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, গতকাল অধিদফতরের সহকারী উপ-পরিদর্শক এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। সহকারী উপ-পরিদর্শক পদের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শকের ৪২৮টি পদের বিপরীতে দুই লাখ ১৮ হাজার এবং নিম্নমান সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের ৫০৩টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা ছিল। এই সহকারী উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং কুড়িগ্রাম থেকে আট জনকে আটক করেছে পুলিশ। ফাঁস করা এসব প্রশ্নপত্র বিভিন্ন জেলায় দুই থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছে চক্রটি।

শাহবাগ থানা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে কবি জসীমউদ্দীন হলের দোতলায় ছাত্ররা দুইজনকে  মোবাইলফোনে প্রশ্নপত্র নিয়ে কথা বলতে শোনেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ঐ দুই শিক্ষার্থী তৌহিদুর রহমান এবং ইসমত মেজবাহ উদ্দিনের কথোপকথনে সন্দেহ হয় ছাত্রদের। বিষয়টি তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলীকে জানান। পরে রাত দুইটার দিকে প্রক্টর ঐ হলে অভিযান চালিয়ে ঐ দুই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে দুই সেট প্রশ্নপত্র উদ্ধার করেন। কিন্তু শাপলা ও গোলাপ নামের ঐ দুই সেট প্রশ্নপত্রের উপরে কোন কভার পাতা ছিল না। তাই কোন পরীক্ষার প্রশ্ন—সে ব্যাপারে তখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে খাদ্য বিভাগের প্রশ্নপত্র বলে ধারণা করা হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তৌহিদ ও মেজবাহ খাদ্য বিভাগের সহকারী উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন বলে স্বীকার করেন। এরপরই দুইজনকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। পরে শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সাথে উদ্ধারকৃত শাপলা সেটের হুবহু মিল পাওয়া যায়। আটককৃত তৌহিদুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০০৫-০৬ সেশনের এবং ইসমত মেজবাহ উদ্দিন দর্শন বিভাগের ২০০৩-০৪ সেশনের ছাত্র বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আমজাদ আলী জানান, রাতে ঘটনাটি জানার পরপরই তিনি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। রাতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে শুক্রবার সকাল পৌনে নয়টার দিকে তিনি খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরুণ মিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এ সময় সচিব বিষয়টি নিয়ে সহযোগিতা না করে দুর্ব্যবহার করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।  এ প্রসঙ্গে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস দুই জনকে থানায় সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় খাদ্য বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁরা মামলা দায়ের করতে পারে বলে জানিয়েছে। মামলা দায়ের না করলে পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করে তাঁদেরকে আদালতে হাজির করবে। ঘটনার সাথে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

কুড়িগ্রামে আটক আট

ইত্তেফাকের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, খাদ্য অধিদফতরের দুইটিপদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গতকাল ভোররাতে প্রশ্নপত্রসহ আট জনকে আটক করে পুলিশ। রাজারহাট  উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন থেকে খাদ্য অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও ল্যাপটপসহ তাদেরকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকারের বাড়িতে ল্যাপটপ থেকে ই-মেইলে পাওয়া প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করা হচ্ছিল। এ সময় ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঐ বাড়ি থেকে বিভিন্ন উপজেলার আটজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন-রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চতুরা গ্রামের আব্দুল জলিল সরকার (৬৬) ও তার পুত্র মাহফুজার রহমান (৩৩), চান্দামারী গ্রামের আব্দুল হাই ঝুনু (২২), কুড়িগ্রাম সদরের পুরাতন থানাপাড়া গ্রামের রুহুল আমিন (৪৫), বকসীপাড়ার মোস্তাফিজুর রহমান (৩০), কৃষ্ণপুর পাইকপাড়া গ্রামের লুত্ফর রহমান লিটন (৩৩), হলোখানা সন্যাসী গ্রামের আসাদু্জ্জামান (১৮) ও লালমনিরহাট জেলা সদরের মনোরাম গ্রামের হাসান বসুনিয়া (২২)।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, উদ্ধারকৃত প্রশ্নপত্রের সাথে পরীক্ষায় সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের অবিকল মিল পাওয়া গেছে। এজন্য প্রশ্নপত্র সংযুক্ত করে উত্তরপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা ২০মিনিট পর্যন্ত এই দুই পদে নিয়োগ পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার ৮ হাজার ৫৯৯ জন অংশ নেন।  এদের মধ্যে সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে কুড়িগ্রাম জেলার ৪ হাজার ৫৫৪ জন ও লালমনিরহাট জেলার ২ হাজার ৭৪৮ জন এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কুড়িগ্রাম জেলার ৮২৮ জন ও লালমনিরহাট জেলার ৪৬৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সালাম।

রংপুরে প্রতি প্রশ্নপত্র ২ থেকে   ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি 

ইত্তেফাকের রংপুর দক্ষিণ প্রতিনিধি জানান, রংপুরে খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করে সংশ্লিষ্টরা কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের লালবাগ, খামার পাড়া, ট্রাক স্ট্যান্ড, সেনপাড়া, মেডিক্যাল মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় গোলাপ ও শাপলা সেটের প্রতিটি প্রশ্নপত্র সর্বোচ্চ  ২০ হাজার টাকা  থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে খাদ্য কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানান। জেলা খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উপসহকারী খাদ্য পরিদর্শক পদে রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার ১৭ হাজার ৩৭১ জন পরীক্ষার্থী গতকাল শুক্রবার শহরের ১৮টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষার্থীরা এসব এলাকায় গিয়ে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। এ খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা পুলিশও খুঁজতে থাকে এর হোতাদের। কিন্তু তাদের অভিযানের খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তারা গা ঢাকা দেয়।

পরীক্ষা বাতিলের দাবি

এদিকে খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পরও পরীক্ষা গ্রহণ করার সমালোচনা করেছেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী একাধিক শিক্ষার্থী। তাঁরা বলেন, ফাঁসকৃত প্রশ্নের মাধ্যমে পরিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করলে অসদুপায় অবলম্বনকারীরাই চাকরির সুযোগ পাবে। বাদ পড়বে মেধাবী ও যোগ্য শিক্ষার্থীরা। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাও বাড়বে। প্রশ্রয় পাবে অপরাধীরা। তারা দাবি করেন, এর আগেও খাদ্য বিভাগের নিয়োগ প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। এর পিছনে কাজ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেট প্রশ্ন ফাঁস করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এদের গ্রেফতার করতে হবে। পরীক্ষার্থীরা গতকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল ও নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানান।

এ প্রসঙ্গে জানতে খাদ্য বিভাগের সচিব বি ডি মিত্রের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আর খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আহমেদ হোসেন খান বিদেশে অবস্থান করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা

এদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা  মন্ত্রণালয়। গতকাল মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক ও নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সাথে এ ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গতকাল দেশের ২১টি জেলায় খাদ্য অধিদফতরের সহকারী উপ-খাদ্য পরিদর্শক এবং নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মুদ্রণের কোন প্রক্রিয়ায় খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য অধিদফতরের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) এ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে। প্রস্তুতকৃত প্রশ্ন আইবিএ সিলগালা অবস্থায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রেসে পাঠায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করে সিলগালা করে তা প্রেস অফিসে অবস্থানকারী খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে হস্তান্তর করে। প্রেস অফিস থেকেই সিলগালাকৃত প্রশ্নপত্র বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর জন্য সংশ্লি­ষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির (ম্যাজিস্ট্রেট) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রশ্নপত্র নিয়ে সংশ্লি­ষ্ট জেলার ট্রেজারিতে রাখেন। গত পরীক্ষার সময়ে ট্রেজারি থেকে প্রশ্নপত্র সংশ্লি­ষ্ট জেলার পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের আগে প্রশ্নপত্রের বিষয়বস্তু সম্পর্কে খাদ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদফতরের কোন পর্যায়ের কর্মকর্তার পক্ষে কোন কিছু জানা সম্ভব ছিল না।

 

মন্তব্য

এখানে কোন মন্তব্য নাই।



আপনার মন্তব্য দেওয়ার জন্য লগইন অথবা রেজিষ্টার করুন

পুরোনো সংখা

<< জানুয়ারী ২০১২ >>
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১   

১৪ই এপ্রিলের পূর্বের আর্কাইভ

ইত্তেফাক আর্কাইভ

মানিক মিয়া

  • The Daily Ittefaq
  • RSS Feed
  • TechnoFusion
  • অনলাইন জরিপ

    তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?

    • হ্যাঁ ০%
    • না ০%
    • মন্তব্য নেই ০%

    পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন

     

    4.99MB 0.2615