৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
লেখক: আবুল খায়ের ও নিবারণ রায় নরসিংদী থেকে | মঙ্গল, ২২ নভেম্বর ২০১১, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪১৮
লোকমান হত্যাকাণ্ড :কিলারদের ব্যবহূত মাইক্রোবাস উদ্ধার
নরসিংদী পৌরসভার জনপ্রিয় মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ডে গ্রেফ-তারকৃত যুবদল নেতা হাজী ফারুক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও তার রয়েছে খুনের নেশা। পুলিশ জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডের মাস্টার প্লানার হাজী ফারুক। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদে লোকমান হত্যাকাণ্ডসহ আন্ডার ওয়ার্ল্ডের বিভিন্ন ঘটনার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। হাজী ফারুক পুলিশকে জানান, রাজধানীর পুরান ঢাকার অপরাধ জগত্ দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। ওই এলাকায় সংঘটিত খুন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখল ও মাদক ব্যবসা তার গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে। নরসিংদী পুলিশ হাজী ফারুকের দেয়া তথ্য যাচাই করতে গিয়ে রাজধানীর বেশ কয়েকটি কিলিং মিশনসহ বড় বড় অপরাধের সঙ্গে তার জড়িত থাকার তথ্য পেয়েছে। মেয়র লোকমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নরসিংদী পৌর যুবলীগ সভাপতি আশরাফ হোসেন সরকার ওরফে আশরাফ সরকারের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ ঢাকার ওয়ারি এলাকা থেকে গত শনিবার হাজী ফারুক এবং নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে মাহফুজ ও শাহীনকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের সময় কিলার-দের ব্যবহূত একটি মাইক্রোবাস গতকাল নরসিংদী সদর এলাকা থেকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহূত হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিক-ভাবে নিশ্চিত হয়েছে। খুনিরা মাইক্রোবাসটি ঘটনাস্থলের অদূরে নিরাপদ স্থানে রেখে পরিকল্পনা অনুযায়ী অপারেশনে যায়। কিলার মাহফুজ শাহীনের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ মাইক্রোবাসের সন্ধান পায়।
হাজী ফারুক, কিলার মাহফুজ ও শাহীন মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডে কোন কিলার কিভাবে দায়িত্ব পালন করেছে এবং তাদের নাম ঠিকানা ও পরিচয়সহ যাবতীয় তথ্য জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে। তাদেরকে হত্যা মামলায় ১০ দিন করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অস্ত্র মামলায় পুলিশ আরো চারদিন রিমান্ডে নিয়েছে মাহফুজ ও শাহীনকে। এই দুইজন কিলারের দেয়া তথ্যানুযায়ী পুলিশ গত রবিবার নরসিংদী থেকে নাসির মিয়া নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। নাসিরকেও গতকাল হত্যা মামলার তদন্তকারী ডিবির কর্মকর্তারা তিনদিনের রিমান্ডে নেয়। হাজী ফারুক, মাহফুজ ও শাহীন রিমান্ডের প্রথম দিনে গতকাল জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন লোকমান হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত পরিকল্পনা নিয়ে গ্রেফতারকৃত যুবলীগ নেতা আশরাফ সরকার এবং মালয়েশিয়ায় পলাতক বিএনপির নেতা তারেক আহমেদ ও নূরুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ নেতা মোবারক হোসেন মোবার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী যুবদল নেতা হাজী ফারুককে গ্রেফতারকৃত আশরাফ সরকার ও পলাতক মোবা টাকা দিয়েছে। সাতজন কিলার ভাড়া করার জন্য ৪৫ লাখ টাকা এবং হত্যাকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে করার জন্য হাজী ফারুককে আলাদা আরও ৩৫ লাখ টাকা অগ্রিম হিসাবে দিয়েছে আশরাফ সরকার ও মোবা।
মাহফুজ ও শাহীনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। নরসিংদী শহর ও আশপাশে ঐ সকল হত্যাকাণ্ড মাহফুজের নেতৃত্বে হয়েছে। মাহফুজ ভয়ংকর কিলার বলে পুলিশ জানায়। আন্ডার ওয়ার্ল্ডে তার ছদ্মনাম হচ্ছে সবুজ ওরফে তাওবা।
তদন্ত যথাযথভাবে চলছে : পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদউদ্দিন
নরসিংদী পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদউদ্দিন গতকাল এক প্রেস ব্রিফিং-এ বলেন, তদন্ত কাজ যথাযথভাবে চলছে। তদন্তকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি আমরা। আশাকরি শীঘ্রই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবো। মেয়র লোকমান হোসেন হত্যাকাণ্ড শুধু রাজনৈতিক কারণেই হয়নি। এর পিছনে আরওঅনেক কারণ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক শত্রুতা, টেন্ডারবাজি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ, আভ্যন্তরীণ দলীয় কোন্দলসহ নানাবিধ কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা না থাকলে কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। আর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। লোকমান হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত একজন, এজাহার বহির্ভূত পাঁচজন ও অস্ত্র মামলায় একজন রয়েছে। এরই মধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে একটি রিভলবার ও একটি পিস্তল। অস্ত্র দুটিই অত্যাধুনিক এবং বিদেশে তৈরি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, এজাহারকে সামনে নিয়েই তদন্ত কাজ এগুচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পরিকল্পনাকারী এবং হত্যাকারী ও অস্ত্রের যোগানদাতা রয়েছে। শুধু এজাহারে নাম থাকলেই কোন আসামীকেই গ্রেফতার করতে হবে এমন কথা নয়। এজাহারভুক্ত হোক না হোক তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে তাকেই গ্রেফতার করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে নরসিংদী জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি খায়রুল কবির খোকন বলেছেন, লোকমান হোসেনের প্রকৃত খুনীদের বিচার করতে হবে। অযথা কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়। কোন খুনী যাতে আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তিনি প্রশাসন এবং সংবাদকর্মীদের সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি গতকাল নরসিংদীর চিনিশপুরস্থ বাসভবনে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার ৪৭ তম জন্মদিন উপলক্ষে জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রউফ ফকির রণির পরিচালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টার, সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান উদ্দিন মোল্লাসহ সভাপতি অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান খান, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন, শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব ফারুক উদ্দীন ভুঁইয়া, বিএনপি নেতা মীর ফজলুর রহমান, সাজাহান মল্লিক, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া প্রমুখ।
এদিকে গতকাল নরসিংদী শহরের পূর্ব দত্তপাড়া দারুল উলম মাদ্রাসা মাঠে সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আবুল হায়াত সরকারের সভাপতিত্বে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মেয়র লোকমান হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবী করা হয়। একই সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও দুই দুইবার নির্বাচিত সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মতিন সরকার, নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ উদ্দিন ভুঁইয়া, শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল সরকার, নরসিংদী সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি মিয়া মোহাম্মদ মঞ্জুরসহ চারজনকে মামলায় এফআইআরভুক্ত করায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন সখা, বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ সেলিম, বিএনপি নেতা বাবুল সরকার, অ্যাডভোকেট নাছিমুল হক ভুঁইয়া, সাবেক কমিশনার আব্দুল কাদির, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোন্তাজ ভুঁইয়ার ছোট ভাই মোস্তাক আহমেদ ভুঁইয়া, আসাদুজ্জামান খোকন, রায়হান সরকার প্রমুখ।
তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।