box1

হোমarrow_menu শেষ পাতাarrow_menu জটিলতা কাটেনি, রিট করবেন ভুক্তভোগীরা

জটিলতা কাটেনি, রিট করবেন ভুক্তভোগীরা

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার  |  মঙ্গল, ২২ নভেম্বর ২০১১, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪১৮

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটে ৯ ডিসেম্বর পুনঃভর্তি পরীক্ষা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জটিলতা কাটেনি। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চ শিক্ষার দ্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একদিকে আগামী ৯ ডিসেম্বর গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও পূর্ব ঘোষিত ফল বহাল রাখার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। এ দাবিতে আজ মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি এবং শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবেন তারা। একই সাথে পূর্ববর্তী ফল বহাল রাখার দাবিতে আদালতে রিট এবং কাল বুধবার থেকে আমরণ অনশনে যাওয়ারও ঘোষণাও দিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।  গত ২৮ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের আটটি বিভাগের অধীনে ৯৮০টি আসনের বিপরীতে ৩৭ হাজার   ৪৮৮ জন  শিক্ষার্থী     ভর্তি  পরীক্ষায় অংশ নেন। ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত ফলাফলে দুই হাজার ৭২৭ জন উত্তীর্ণ হয়। ঐ পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী ফল মূল্যায়নে ভুল এবং প্রশ্নপত্রে ভুল আছে বলে চ্যালেঞ্জ করে। তারা ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানায়। এ প্রেক্ষিতে গত এক নভেম্বরের পুনর্মূল্যায়িত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ঐ ফলাফলে পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় হাজার ৯৪ জন। কিন্তু পুনর্মূল্যায়িত ফলাফলেও অসঙ্গতি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষা পুনরায় গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে আগের দুই ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ ইউনিটের প্রশ্নপত্র তৈরি এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা নতুন করে গ্রহণ করলে আগের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অনেক শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারবেন না। এর কারণ হিসেবে তারা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্রিক পড়াশোনা থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিরত রয়েছেন। অনেকে গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে মেস বা বাসা ভাড়া করে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর তারা বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। এখন নতুন করে পরীক্ষা দিতে হলে আবার সব কিছু গুছিয়ে উঠতে সময় লাগবে। পুনরায় পরীক্ষায় বসার মানসিক শক্তিও নেই অধিকাংশের। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ যেসব শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চান্স পায়নি তারা এখনও অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের প্রস্তুতির সাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিমধ্যে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতিগত বিস্তর ব্যবধান সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ভর্তিচ্ছুরা।

এ প্রসঙ্গে গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম ফলে ৪৯১তম এবং পুনর্মূল্যায়িত ফলে ৭৬২তম শিক্ষার্থী মোঃ আল আমিন বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়ার জন্য নিয়মিত পড়ছিলাম। চান্স পাওয়ার পর বাড়িতে চলে যাই। কিন্তু পরে জানতে পারি আগের ফলে ভুল ছিল। পুনর্মূল্যায়িত ফলে আমি পিছনে পড়ে যাই। এখন ভর্তি পরীক্ষাই বাতিল করা হয়েছে। নতুন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য যে একাডেমিক ও মানসিক প্রস্ততি প্রয়োজন তা আমাদের নেই। তিনি ঢাকা সিটি কলেজে সহপাঠীদের উদাহরণ এনে বলেন, ‘আমার কলেজের অনেক বন্ধুই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায়নি। ওরা অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেতে নিয়মিত পড়ছে। কিন্তু আমরা উত্তীর্ণরা পড়াশোনা থেকে স্বাভাবিকভাবেই বিচ্ছিন্ন রয়েছি চান্স পাওয়ার পর। এখন নতুন করে পরীক্ষা নেয়া হলে একটি অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে যাব। এটি অন্যায়।’ অপর শিক্ষার্থী রোমানা ফেরদৌস বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে ভর্তি হইনি। এখন সেখানেও ভর্তির সময় সীমা শেষ হয়েছে। কোনো দরজা খোলা নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে পুনরায় সব খাতা মূল্যায়ন করুক। কিন্তু নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হলে আমাদের ঝরে পড়ার সম্ভাবনাই বেশী।’

উচ্চ শিক্ষা থেকে ঝরে পড়বেন এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বছর গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পাওয়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিক্ষার্থী দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে চান্স পেয়েছে বলে জানা গেছে। এরা গত শিক্ষাবর্ষে দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছে। সেখান থেকে ভর্তি বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এখন নতুন করে অনুষ্ঠেয় ভর্তি পরীক্ষায় চান্স না পেলে তাদের জন্য উচ্চ শিক্ষার দ্বারই বন্ধ হয়ে যাবে বলে তারা জনিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগের ফলাফলে চান্স পাওয়া ছাত্র শেখ তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরনগরে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগে গত শিক্ষাবর্ষে পড়ছিলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর ভর্তি হতে সেখানকার ভর্তি বাতিল করি। আরেক সেশনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ আমার নেই।’ অপর শিক্ষার্থী সুলতান আহমেদ বলেন (৬৫০তম), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তিনি ঢাকা কলেজের ভর্তি বাতিল করেছেন। এখন সেখানেও ভর্তির সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর পুনরায় অনুষ্ঠেয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ব্যর্থ হলে ডিগ্রী পাস কোর্সে ভর্তি হওয়া ছাড়া আমার উপায় নেই। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আর্থিক সঙ্গতিও নেই। তিনি বলেন, ‘আমি উচ্চশিক্ষিত হতে চাই। প্লিজ আমাকে সুযোগ দিন। আমার স্বপ্ন নষ্ট করবেন না।’

ক্ষোভের আগুন জ্বলছে মনে, ছড়িয়ে পড়বে রাজপথে!

গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন করেছে চান্স পাওয়া ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। কর্মসূচীগুলো থেকে তারা আগের ফলাফল বহাল রাখার দাবি এবং পুনরায় পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। দাবি আদায়ে তারা আজ রাষ্ট্রপতি এবং শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবেন। আদালতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিটও করা হবে। এজন্য আইনজীবীদের সাথে তারা কথা বলছেন। দাবি মানা না হলে কাল বুধবার থেকে তারা আমরণ অনশন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আবার অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আত্মহত্যা করারও হুমকি দিয়েছেন।

৯ ডিসেম্বর পুনঃ ভর্তি পরীক্ষা

গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম দফার প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি থাকায় শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ৯ ডিসেম্বর নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, আগের প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নেও অসঙ্গতি থাকায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে। ইতিমধ্যে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়লেও সব ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর স্বার্থেই এটি করা হয়েছে। আর প্রশ্নপত্রে ভুল এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে অসঙ্গতির কারণ তদন্তে কাজ চলছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েব সাইট থেকে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। আর গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল উদ্দিন আহমেদের সাথে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

 

 

মন্তব্য

এখানে কোন মন্তব্য নাই।



আপনার মন্তব্য দেওয়ার জন্য লগইন অথবা রেজিষ্টার করুন

পুরোনো সংখা

<< নভেম্বর ২০১১ >>
শনিরবিসোমমঙ্গলবুধবৃহস্পতিশুক্র
   
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

১৪ই এপ্রিলের পূর্বের আর্কাইভ

ইত্তেফাক আর্কাইভ

মানিক মিয়া

  • The Daily Ittefaq
  • RSS Feed
  • TechnoFusion
  • অনলাইন জরিপ

    তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?

    • হ্যাঁ ০%
    • না ০%
    • মন্তব্য নেই ০%

    পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন

     

    4.97MB 0.2546