৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
বৃহস্পতি, ১৪ জুলাই ২০১১, ৩০ আষাঢ় ১৪১৮
ধানের উত্পাদনের হ্রাস-বৃদ্ধি এবং ধান-চালের দামের ওঠানামা দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করে সন্দেহ নাই। দেশের প্রধান ফসল হিসাবে ধানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। কিন্তু কৃষি-প্রধান অর্থনীতির এ দেশে ধানই যে সবটা নহে, রকমারি শাক-সবজি, মৌসুমী ফলসহ নানা কৃষিপণ্য অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করিতেছে। কিন্তু শাক-সবজির দাম, কৃষকের বঞ্চনা ইত্যাদি সংবাদপত্রে খবর হইয়া ওঠে প্রায়ই। গত বুধবারেও একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে কৃষকের সবজির দাম না পাওয়া এবং ফড়িয়াদের মুনাফা লোটা খবরের শিরোনাম হইয়াছে। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় যে কাঁকরোল হাটে প্রতি কেজি ৮ টাকা ৭৫ পয়সা হইতে ১২ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করিতে বাধ্য হন কৃষকরা, সেই কাঁকরোল রাজধানীর অনেক বাজারে ২৮ টাকা কেজি দরে কেনেন ভোক্তারা। শুধু কাঁকরোল নহে, বেগুন, মরিচসহ বহু কৃষিপণ্যই উত্পাদক ও ভোক্তা পর্যায়ে দামের বৈষম্য লইয়া অনেককেই আক্ষেপ করিতে দেখা যায়। কিন্তু মনে রাখা দরকার, কৃষিপণ্যের দামের ওঠানামা উত্পাদন, চাহিদা এবং সরবরাহ তথা বাজার-ব্যবস্থার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এই সত্যকে অগ্রাহ্য করিয়া কোনো কৃষিপণ্যের দাম বৃদ্ধির জন্য ভোক্তার আক্ষেপ বা কৃষকের বঞ্চনা লইয়া যতই দুঃখ করা হউক, উহাতে সেই কৃষিপণ্যের উত্পাদন বা দামের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটিবে বলিয়া আমাদের মনে হয় না।
কৃষিতে প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় পাটের চাষ বন্ধ করিয়া দিয়াছে কৃষকরা। বাজারে চাহিদা বাড়ায় আবার পাট চাষে উত্সাহের খবর পাওয়া যাইতেছে। পুরনো নানা জাতের আউশ-আমন ধানের স্থান নিয়াছে উচ্চফলনশীল ইরি ধান। হাইব্রিড ধানের মতো দেশে ইতিমধ্যে সবজির অনেকগুলি হাইব্রিড জাত উদ্ভাবিত হইয়াছে। অনেক শীতকালীন সবজি শুধু শীতে নয়, অন্য ঋতুতেও উত্পাদিত হইতেছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কৃষিতে উত্পাদন বাড়িয়াছে বহু গুণ। আমাদের দেশেও বহু কৃষিপণ্যের উত্পাদন বাড়িয়াছে সত্য তবে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হইল, দেশের চাহিদা ও সুষ্ঠু বাজার-ব্যবস্থার সঙ্গে কৃষিপণ্যের সমন্বয় না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা ন্যায্য দাম প্রাপ্তি হইতে বঞ্চিত হইতেছেন। আবার কোথাওবা ভোক্তারা বেশি দামে কিনিতে বাধ্য হইতেছেন অনেক কৃষিপণ্য। উত্পাদন-ব্যয়ের তুলনায় বাজারমূল্য কম পাওয়ায় সেই কৃষিপণ্যের উত্পাদন বাদ দিয়া, অর্থকরী বিবেচনায় নতুন কৃষিপণ্যের উত্পাদনের দিকে ঝুঁকিতেছে কৃষকরা। রাজশাহীতে কৃষিজমিতে আমবাগান এবং দেশের অন্যান্য স্থানেও বহু কৃষিজমিতে ফলের বাগান গড়িয়া ওঠার খবর জানা গিয়াছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে কৃষিতে বহুমুখী উত্পাদনে এবং কৃষিপণ্যের বাজার-ব্যবস্থায় কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করিবে কে? এ প্রশ্ন অপ্রাসঙ্গিক নহে।
কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য জবরদস্তিমূলক বাজার নিয়ন্ত্রণ করিয়া লাভ হইবে না। সমাজতান্ত্রিক দেশেও এইরূপ ব্যবস্থা বেশিদিন কার্যকর থাকে নাই। অন্যদিকে কৃষককে ভর্তুকি দিয়াও কৃষিউত্পাদন ব্যয় হ্রাস করিলেও কৃষি অর্থনীতির ভিত মজবুত হইবে না। আমরা বহুমুখী কৃষি উত্পাদনের ক্ষেত্রে দেশের সামগ্রিক চাহিদার সঙ্গে সঙ্গতি রাখিয়া পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের পক্ষপাতী। ইহার জন্য দেশের কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগকে যথাযথ ভূমিকা পালন করিতে হইবে। মোটকথা, কৃষি অর্থনীতিকে গতিশীল করিতে কৃষিপণ্যের বহুমুখী উত্পাদন ও বাজারজাতকরণেও কৃষকের স্বার্থের দিকটি বিবেচনায় রাখিতে হইবে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে।
তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।