৪০, কাওরান বাজার । ফোন: ৮১৮৯০১৭-৮
কাজলারপাড়, ডেমরা রোড। ফোন : ৭১২২৬৬০, ৭৫৫৪৯৬০
৯/আই মতিঝিল (বিজ্ঞাপন) ফোন:৭১২২৬৬৪, ৭১২২৬৬৭
e-mail: ittefaq@bangla.net.
dailyittefaq@yahoo.com
USA-Correspondent: shahidulus@gmail.com
লেখক: বাসস | বৃহস্পতি, ৭ জুলাই ২০১১, ২৩ আষাঢ় ১৪১৮
ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে তিনদিনব্যাপী ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১১ উদ্বোধনকালে তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরে বলেন, আমরা সরকারি কাজে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে চাই। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে সকল সরকারি দফতরকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতিমধ্যে ই-জিপি সিস্টেম ও ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাংলা ভাষায় ওয়েবসাইটের কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট করার কাজ চলছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০১২ সালের মধ্যে আমরা ই-কমার্স চালু করতে পারবো।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আবদুল আজিজের সভাপতিত্বে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম খান এবং ঢাকা বিভাগের কমিশনার মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ।
বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে এটুআই প্রোগ্রাম যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করে।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮০টি প্রতিষ্ঠান এবং ৬টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় তাদের তথ্যপ্রযুক্তির সেবা প্রদর্শন করছে। আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে অংশগ্রহণকারী কমপক্ষে ৩১টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা-২০১১’র পুরস্কার দেয়া হবে। এ ছাড়া মেলায় তথ্যপ্রযুক্তির ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মার্চ মাসে ঢাকায় প্রথম মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এটি দ্বিতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা। উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার ইতিমধ্যে আইসিটি অ্যাক্ট-২০০৯ প্রণয়ন করেছে। অনুমোদন করা হয়েছে আইসিটি পলিসি-২০০৯। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই ই-তথ্য কোষ চালু করা হয়েছে। এই তথ্যকোষে কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইন ও মানবাধিকার, নাগরিক সেবাসহ জীবন-জীবিকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে। যে কেউ এখান থেকে প্রয়োজন মতো তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ৮ হাজার ৫শ’টি পোস্ট অফিসে ‘ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি’ স্থাপন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সারাদেশে টেলিফোন ও ইন্টারনেটের আওতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে ঢাকার বাইরে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশের সকল উপজেলাকে মোবাইল ইন্টারনেটের আওতায় আনা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮২-তে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের সঙ্গে বাংলাদেশকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। তিনি বলেন, ৭টি বিভাগের ৫৬টি জেলায় ও ৫৭টি উপজেলাকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এ অর্থবছরে শেষ হবে। এক হাজার ইউনিয়নকে অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আনার কাজ শুরু করা হয়েছে। দ্রুতগতিতে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়ার জন্য ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির উন্নয়ন কাজ চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাঠ প্রশাসনের কাজের গতিশীলতা আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, ৭টি বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্স সিস্টেম চালুর কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিটি ইনকিউবেটর স্থাপনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে আইটি পার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার অদূরে হাইটেক পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট স্থাপনের জন্য আমাদের সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রয়েছে দক্ষ মানব সম্পদের সীমাবদ্ধতা। তাই বলে আমাদের বসে থাকলে চলবে না। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে জমে থাকা দুর্নীতি ও অপশাসন দূর করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি জনমুখী সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলা। জনগণকে সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে উদ্ভাবনী শক্তি প্রয়োগের কোন বিকল্প নেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি, বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফল, রেলওয়ের টিকিট, চিনিকলে আখ সরবরাহের পূর্জিসহ অনেক ধরনের সাধারণ সেবা এখন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এসেছে। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ফরম, সরকারি গেজেট, সরকারের বিশেষ ঘোষণা, ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট ও ভিসা সংক্রান্ত তথ্য, চাকরি সংক্রান্ত তথ্য, পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সরকারি সেবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে ডিজিটাল উদ্যোগের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ই-বুক প্রণয়ন ও মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম স্থাপন। ইতিমধ্যে সারাদেশে ২০ হাজার ৫শ’টি মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় একটি করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া কম্পিউটার প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী তৈরির লক্ষ্যে দেশের ৭১টি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর বিভিন্ন কোর্স চালু করা হয়েছে। এক হাজার ৪শ’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। জাতীয় আইসিটি ইন্টার্নশীপ কার্যক্রমের আওতায় প্রশিক্ষণ প্রদান কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সেবার অন্যতম সুবিধা হচ্ছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জনগণের দল হিসাবে আওয়ামী লীগ তা করতে বদ্ধপরিকর। আর এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এই মেলা আয়োজনের জন্য এটুআই প্রোগ্রাম, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ইউএনডিপি’কে ধন্যবাদ জানান।
তদন্তে দুর্বলতার কারণে সাংবাদিক হত্যার বিচার হয় না বলে মনে করেন?
পূর্বের রেজাল্ট দেখতে ক্লিক করুন
মন্তব্য
এখানে কোন মন্তব্য নাই।